বেকারত্বের অন্ধকার পেছনে ফেলে দক্ষতার শক্তিতে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্তে পা রাখছেন মেহেরপুরের তরুণ-তরুণীরা। সরকারের Asset Project-এর আওতায় জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (NSDA)-এর অধীনে শিল্পের চাহিদাভিত্তিক বিভিন্ন ট্রেডে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষতার স্বীকৃতি অর্জনের পাশাপাশি কর্মজীবনে প্রবেশ করছেন তারা। কেউ চাকরি করছেন, কেউ প্রশিক্ষক হিসেবে গড়ে তুলছেন ক্যারিয়ার, আবার কেউ নিজের কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করছেন। মেহেরপুরে এই দক্ষতা বিপ্লবের নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে রশ্নি টেকনিক্যাল কম্পিউটার ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (রশ্নি TTC)। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের দ্রুত পরিবর্তনশীল কর্মবাজারে টিকে থাকার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার এখন প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা। সেই বাস্তবতায় Asset Project-এর কর্মমুখী প্রশিক্ষণ তরুণদের জন্য খুলে দিচ্ছে সম্ভাবনার নতুন দরজা। মেহেরপুর জেলায় Asset Project-এর আওতায় Digital Marketing প্রশিক্ষণ নিয়ে মেহেরপুরের ফারহানা বর্তমানে ই-লার্নিং ট্রেইনার হিসেবে কর্মরত। Graphics Design প্রশিক্ষণ নিয়ে মো. শাওন একটি প্রিন্টিং প্রেসে গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে কাজ করছেন; তার মাসিক আয় প্রায় ২৫-৩০ হাজার টাকা। শাওনের ভাষায়, “দক্ষতার স্বীকৃতি আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।” গাংনীর উপজেলার মো. ফাহাদ বর্তমানে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ট্রেইনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে মাস্টার্স শেষ করেও দীর্ঘদিন কর্মসংস্থানের সুযোগ না পাওয়া মো. সালমান রেজা Asset Project-এর আওতায় আইটি প্রশিক্ষণ নিয়ে বর্তমানে ট্রেইনার হিসেবে নিজের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করেছেন। রশ্নি TTC-এর নির্বাহী পরিচালক এস. এম. রাসেল বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু প্রশিক্ষণ দিয়ে সার্টিফিকেট প্রদান নয়; প্রশিক্ষণার্থীদের বাস্তব কর্মক্ষেত্রের উপযোগী করে গড়ে তোলা এবং তাদের দক্ষতাকে কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করা। তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে বেকারত্ব কমবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা আরও শক্তিশালী হবে।”

